আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি — Mushfiq Borat

আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি — Mushfiq Borat

পৃথিবীর বাসিন্দারা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির একটি অংশ। মূল আলোচনায় যাবার আগে বেনজিন রিং সোসাইটির পূর্ব ধারণা থেকে কিছু কথা বলতে চাই। গ্রাফিন নামে এক অতি মূল্যবান পদার্থ রয়েছে। এই গ্রাফিন নামক পদার্থটি নিয়ে আমাদের সোসাইটি বেশ আশাবাদী।

       অনেকগুলো বেনজিন রিং-এর সমন্বয়ে গঠিত গ্রাফিন সবচে’ শক্তিশালী পদার্থ। যা ইস্পাতের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। ২০০৪ সালে আবিষ্কৃত গ্রাফিন বর্তমান বিশ্বে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ, সৌরবিদ্যুৎ কোষ, ইন্টারনেটের গতিবৃদ্ধির প্রযুক্তি, চিকিৎসাপ্রযুক্তিসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতে গাড়ি, উড়োজাহাজ এবং সোলার সেলে গ্রাফিন ব্যবহারের চিন্তা করছেন প্রকৌশলীরা। আর দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতার কারণে এটা থেকে তৈরি করা যাবে মহাকাশচারীদের উপযোগী নতুন ধরণের পোশাক ও অন্যান্য উপকরণ। এই পদার্থটি মাত্র এক পরমাণু সমান পাতলা। পেনসিলের সীস গ্রাফাইট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কার্বনের একটি ভিন্ন রূপই হলো গ্রাফাইট। এই গ্রাফাইটকে একটু পরিবর্তন করে তৈরি করা হয়েছে গ্রাফিন। গ্রাফিন খুব ভালো তাপ পরিবাহী। গ্রাফিন বিশুদ্ধ, সরল গঠনের, নিয়মিত পারমাণবিক বন্ধনবিশিষ্ট একটি পদার্থ।

       এবার মূল আলোচনায় আসা যাক। মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা নামে আমাদের গ্যালাক্সিটি পাশের গ্যালাক্সি অ্যান্ড্রোমিডার সাথে কোনো একসময় মিশে যাবে। হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে যার সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। পারস্পরিক মহাকর্ষ বলের টানে এই দুটি গ্যালাক্সি মিশে যাবার প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী চারশত কোটি বছরের মধ্যে আর সম্পূর্ণ একীভূত অবস্থায় ছায়াপথ দুটি দুইশত কোটি বছর থাকবে। সেই সময় তাদের একটি গ্যালাক্সি বলেই মনে হবে।

       আমাদের গ্যালাক্সিতে সূর্যের মতো প্রায় ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র আছে। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ব্যাস ৯০০০০ আলোকবর্ষ। এখানে রয়েছে ৮৭-৯০% হাইড্রোজেন, ১০% হিলিয়াম ইত্যাদি। আরো রয়েছে ভারী মৌল। ছায়াপথ কয়েকটি আকার-আকৃতির হতে পারে। এগুলো হলো – উপবৃত্তাকার, কুন্ডলাকার, সর্পিল অথবা অনিয়মিত।

       মহাবিশ্ব সৃষ্টির ২ থেকে ৩ বিলিয়ন বছর পরে অধিকাংশ ছায়াপথ একই সাথে গঠিত হয়েছিল। মহাবিশ্বের যে অংশটুকু আমাদের কাছে দৃশ্যমান, তাতে রয়েছে ১০০ বিলিয়নেরও বেশি গ্যালাক্সি। অধিকাংশ গ্যালাক্সির আকার কয়েকশ আলোকবর্ষ থেকে শুরু করে কয়েক হাজার আলোকবর্ষ পর্যন্ত। আমাদের প্রতিবেশী গ্যালাক্সি হলো অ্যান্ড্রোমিডা, ট্রায়াঙ্গুলাম ইত্যাদি। আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে আরো ৪৪টি ছোট গ্যালাক্সি রয়েছে। পৃথিবী থেকে ৩ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে ট্রায়াঙ্গুলাম অবস্থিত যা আমরা খালি চোখে দেখতে পাই। এই গ্যালাক্সিটি ৬০ হাজার আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।

       আমাদের মহাবিশ্বের অন্যতম একটি অংশ হলো মিল্কিওয়ে। এই গ্যালাক্সির ভেতরে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন নক্ষত্র ও জ্যোতিষ্ক। এটি ভেতর থেকে বাইরে ক্রমাগত বেড়ে চলছে। আমাদের আকাশগঙ্গার নক্ষত্র ও গ্যাসের কুন্ডলীর মধ্যে থাকা মৌলগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা মৌল বেশি তাড়াতাড়ি তৈরি হচ্ছে। গ্যালাক্সির কেন্দ্রের দিকে থাকা জ্যোতিষ্কগুলোর বয়স যতো, তার চাইতে বাইরের দিকে থাকা নক্ষত্রের বয়স ততো বেশি। কেন্দ্রের দিকে থাকা ম্যাগনেসিয়ামের ঘনত্ব বেশি থাকার কারণে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, গ্যালাক্সিগুলো ভেতর থেকে বাইরের দিকে বর্ধিত হচ্ছে।

       মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি গতিশীল, এটি ঘূর্ণন সম্পন্ন করে। আগে ধারণা করা হতো আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূলিমেঘ যখন অতি শক্তিশালী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র দ্বারা আকর্ষিত হয় তখন গ্যালাক্সির গঠন শুরু হয়। শক্তিশালী মহাকর্ষের পেছনে নায়কের ভূমিকা পালন করে ডার্ক ম্যাটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *